তলব এড়িয়েও শেষরক্ষা হল না। কাকভোরে দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদার-কে আটক করল ইডি (ED)। সূত্রের খবর, সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় এস কামদারকে আটক করে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।
ভোর থেকেই বেহালায় ইডির তল্লাশি
রবিবার সকালে কলকাতার একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালায় ইডি। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বেহালায় জয় এস কামদারের বাড়ি। সকাল ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়।
তবে প্রথমে বাড়িতে ঢুকতেই সমস্যার মুখে পড়তে হয় ইডি আধিকারিকদের।
- প্রায় ৪০ মিনিট দরজা খোলা হয়নি,
- বাড়ির ভিতরে কুকুর ছেড়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ,
- পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে বাড়িতে ঢুকতে সক্ষম হন আধিকারিকরা।
বাড়িতে ঢোকার পর পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
দীর্ঘ তল্লাশির পর আটক
দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানোর পর সকাল ১১টা নাগাদ জয় এস কামদারকে আটক করে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান ইডি আধিকারিকরা। এরপর তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সূত্রের খবর।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিক তছরূপ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
কেন ইডির নজরে এলেন এই ব্যবসায়ী?
এই ঘটনার সূত্র ধরেই সামনে এসেছে সোনা পাপ্পু-র নাম। তদন্তকারীদের অনুমান, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জয় এস কামদারের। একাধিক বেআইনি আর্থিক লেনদেনের হদিশ মিলেছে বলেই দাবি ইডি সূত্রে।
এর আগে জয় এস কামদারকে দু’বার হাজিরার নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই কারণেই রবিবার সকালে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় ইডি।
শহরের একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান
এদিন শুধু বেহালা নয়, কলকাতার আরও কয়েকটি জায়গাতেও তল্লাশি চালানো হয়।
- ফার্ন রোডে এক ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের ফ্ল্যাটেও অভিযান চালায় ইডি
- শহরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।


